হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হয়।
গত ১৩ আগস্ট এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয় এবং রায়ের জন্য মঙ্গলবারের দিন ধার্য করা হয়। শুনানিতে রিটের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ইন্টারভেনর হিসেবে অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।
২৩ এপ্রিল থেকে এই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। এর আগে, ২০ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এই মামলার জন্য নতুন বেঞ্চ গঠন করেন। মামলাটি প্রথমে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিল, কিন্তু ২৪ মার্চ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বেঞ্চটি ভেঙে যায়। পরে রিটকারী মোহাম্মদ শিশির মনির নতুন বেঞ্চ নির্ধারণের আবেদন করেন।
গত বছরের ২৫ আগস্ট ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির সংবিধানের মূল ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের দাবিতে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চায়, কেন বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না।
আরও পড়ুন: ঐক্যে ফাটল ধরলে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বর্তমান সংশোধিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়, অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি) রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। কিন্তু ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































