ড. মুহাম্মদ ইউনূস-newsedge24

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশকে এখনই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। দেশটি দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকার সামর্থ্য রাখে না। তিনি বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ বিকল্প পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও হাইব্রিড সিস্টেমের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতে কয়েক দশক ধরে নির্ভরযোগ্য, শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। পেজ আরও জানান, পারমাণবিক শক্তি এখন আর বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। তিনি বাংলাদেশের উদ্ভাবনের শক্তিশালী ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি একটি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে, যেখানে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে পারমাণবিক শক্তির বিকল্প নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই এসব সুযোগ অনুসন্ধান করব। তবে প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তিগুলো নিয়ে গভীর গবেষণা প্রয়োজন। কোনো সন্দেহ নেই—বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত হ্রাস করতে হবে।”

আরও পড়ুন: সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে সব টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনে

সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *