আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-newsedge4

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে সারাদেশে সাত দিনের জন্য (১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।

পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, আনসার, নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ, র‌্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিম আমাদের সময়কে বলেন, “আজ থেকে সারাদেশে পুলিশ ফোর্স মোতায়েন হচ্ছে। তারা টহল, চেকপোস্ট, তল্লাশি এবং অন্যান্য আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। কেউ শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে মোকাবিলা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো দল-মত দেখা হবে না।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই সারাদেশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল সারাদেশে পুলিশের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৫৭৩টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে ২২ হাজার ৭৩৩টি গাড়ি এবং ৩৪ হাজার ১৬টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২৪টি মোটরসাইকেল আটক এবং ১ হাজার ৪৫১টির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন করা হয়েছে।

পুলিশের বিশেষ শাখা ইতোমধ্যে ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠিয়েছে। এ তালিকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রধারী, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ী এবং বিগত সময়ে মব সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটের আগেই তাদের আইনের আওতায় আনার বিশেষ অভিযান চলছে।

অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

  • সারাদেশে ৪১১ উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রস্তুত।
  • জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন (১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত)।
  • ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য ঠেকাতে পুলিশ, র‌্যাব ও আইসিটি বিভাগের একাধিক টিম নজরদারি করছে।

আরও পড়ুন: ৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সকল নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *