ভোটের আগে-পরে ৮১ ঘণ্টা ‘বহিরাগত’ নিষিদ্ধ: ইসির কড়া পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেকোনো ব্যক্তির নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ৮১ ঘণ্টা (প্রায় সাড়ে ৩ দিন থেকে ৪ দিন) অবস্থান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনা সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোট শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য—নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতি কমিয়ে প্রভাব বিস্তার, সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি বা অশান্তির সম্ভাবনা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সময়ে শুধুমাত্র নির্বাচনী কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি, ইসির অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটাররা অবস্থান করতে পারবেন। অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ বা অবস্থান করলে তা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন নয়, তবে ৮১ ঘণ্টার এই দীর্ঘ সময়কাল অনেকের কাছেই উল্লেখযোগ্য। বিগত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রচারণা বন্ধের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এবার বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর সরাসরি ফোকাস করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইসির পক্ষ থেকে অত্যন্ত সতর্কতামূলক ও কঠোর পদক্ষেপ—যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোট প্রক্রিয়া অবাধ থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ:

  • নিষেধাজ্ঞার সময়কাল: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:০০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত (৮১ ঘণ্টা)
  • ভোটের তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০)
  • যারা অব্যাহতি পাবেন: নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইসি অনুমোদিত ব্যক্তি, স্থানীয় ভোটার ও বাসিন্দা
  • উদ্দেশ্য: নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখা
  • বাস্তবায়নকারী: জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *