কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার মাদরাসা ও এতিমখানাগুলোকে ৩০ হাজার টন লবণ সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি সংক্রান্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির প্রথম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, মাদরাসা ও এতিমখানায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং একটি নির্দেশনামূলক ভিডিও তৈরি করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। তিনি বলেন, “আগে কাঁচা চামড়া একসঙ্গে বাজারে আসায় পচনের ভয়ে কম দামে বিক্রি করতে হতো। এবার তা হবে না। ঈদের পরদিন কমিটি আবার বৈঠকে বসবে, এবং চামড়ার দাম স্থিতিশীল রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করা হবে।” তিনি নিশ্চিত করেন, এ বছর চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হবে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) কমিটির পরবর্তী বৈঠকে চামড়ার দাম চূড়ান্ত করা হবে।
কমিটির অন্যান্য সিদ্ধান্ত:
- নির্ধারিত পশুর হাটের বাইরে কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হবে।
- হাটের হাসিল ৫ শতাংশ থেকে কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “এবার সুষ্ঠু বাজার, পরিবহন ও দামের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। পশুর ওপর নৃশংসতা এবং ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার রোধে কাজ করছি।”
কমিটির গঠন ও দায়িত্ব: গত মঙ্গলবার (২০ মে) গঠিত ১৭ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির আহ্বায়ক বাণিজ্য উপদেষ্টা। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র, শিল্প, সড়ক পরিবহন, পরিবেশ, স্থানীয় সরকার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ধর্ম বিষয়ক, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাসহ বিডার প্রধান নির্বাহী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, শিল্প সচিব, এনজিও ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। বাণিজ্য সচিব কমিটির সদস্য সচিব।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে:
- চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সুরক্ষায় নির্দেশনা প্রদান।
- পশুর হাট, পরিবহন ও নৃশংসতা প্রতিরোধে নির্দেশনা জারি।
- সাভারের চামড়া শিল্প নগরীসহ সারাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































