গণতন্ত্রকামী জনগণ তাঁবেদার অপশক্তির পুনর্বাসন চায় না-তারেক রহমান-newsedge24

৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীনতা পেলেও এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো দিবস। এদিনে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী সব দল বাতিল করে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করে চারটি সংবাদপত্র ব্যতীত অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে অসংখ্য সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন, তাদের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল ভৌগলিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্রে বাক, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীনরা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে এই চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা একদলীয় শাসনের পথ অনুসরণ করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উপর জুলুম চালিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সিকিউরিটি আইনের মতো ‘ড্রাকোনিয়ান আইন’ দিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্দি করা হয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক কালো দিবস। বাকশাল সরকার চারটি সংবাদপত্র ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়, অসংখ্য সাংবাদিককে বেকার করে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী সরকার একইভাবে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। দিনকাল, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামীক টিভি, চ্যানেল-ওয়ান সহ অসংখ্য গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়। অর্ধশতাধিক সাংবাদিক খুন এবং অনেকে মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর বাকস্বাধীনতা কিছুটা ফিরে এসেছে। তবে, পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য দ্রুত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *