সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল-newsedge4

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ২৫ জুন, ২০২৫-এ দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ‘ভোট ছাড়াই’ নির্বাচন পরিচালনার অভিযোগে বিএনপির দায়ের করা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন, ২০২৫) শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হয়। নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত দল এবং জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। নির্বাচনের ভোটের মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা, সংবিধান এবং নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে দল ও প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা। এই অভিযোগে গত ২২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ সাবেক তিন সিইসি (কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কেএম নূরুল হুদা) এবং মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকে কাজী হাবিবুল আউয়াল আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ মগবাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রাখলেও একবার চালু করায় তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাকে মগবাজারের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা তার নিজের বাসা নয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করবেন। এছাড়া, শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৫ জুন) আদালত মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা যুক্ত করার অনুমতি দেন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এবং ১৯৮১ সালে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত হয়, এবং ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ও তার কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেন।

বিএনপির অভিযোগ, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জনগণের ভোটাধিকার হরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক চার আইজিপিসহ ২৪ জন আসামি। বিএনপি দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *