ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের নকশায় তৈরি ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ঢাকার রাস্তায় চলাচল শুরু করবে। শনিবার (২৮ জুন, ২০২৫) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে ই-রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য মাস্টার ট্রেইনার তৈরির কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া, বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আগস্ট থেকে বুয়েটের ডিজাইন করা ই-রিকশা নগরীর অলিগলিতে চলবে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই যানবাহনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত চালকরাই লাইসেন্স পাবেন, যা রোড সেফটির জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলবে।” তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগ নগরজীবনে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং শৃঙ্খলিত গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাবে।
বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশাগুলোর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং এগুলো ঢাকার প্রধান সড়ক বাদ দিয়ে পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে চলাচল করবে। বর্তমানে চলমান ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নিবন্ধনহীন এবং চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। ডিএনসিসি ধীরে ধীরে এই রিকশাগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নতুন নকশার ই-রিকশা প্রতিস্থাপন করবে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩০০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে, যারা পরবর্তীতে ই-রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ২০০ জন প্রশিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দিনে প্রশিক্ষণ কনটেন্ট ও উপস্থাপন কৌশল, দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষণ প্রদানের চর্চা এবং তৃতীয় দিনে রিকশার কারিগরি দিক ও রক্ষণাবেক্ষণ শেখানো হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে গুলশান নগর ভবন, উত্তরার অঞ্চল-১, মহাখালীর অঞ্চল-৩ এবং মিরপুরের অঞ্চল-২ ও ৪ উল্লেখযোগ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ই-রিকশা ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলিত করা, রোড সেফটি নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন ও যাত্রীসেবার মান উন্নত করা হবে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































