নির্বাচনের-রোডম্যাপ-চূড়ান্ত-newsedge24

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত ৮২টি আসনের আপত্তির বিষয়ে শুনানি ২৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে শুরু হবে এবং টানা চারদিন চলবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। এ পর্যন্ত ৭৬টি আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের আবেদন জমা পড়েছে, যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান আখতার আহমেদ। তবে, বিদ্যমান ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে প্রতি ৩,০০০ ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র এবং প্রতি বুথে ৫০০ ভোটারের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে ৬০০ ভোটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভোটারদের উপস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়।

এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বাতিল হওয়া আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে এ ধরনের আপিলের সংখ্যা প্রায় ৮০,০০০। ইসি সচিব জানান, ডাটা এন্ট্রি আরও নিখুঁত হলে আপত্তির সংখ্যা আরও কমে আসবে। এছাড়া, এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং প্রায় ২ লাখ আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অনেক ফরম এখনো স্ক্যান করা বাকি ছিল। এই ফরমগুলো স্ক্যান করে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকার তথ্যভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য মোট ১৪৪টি দলের ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২টি দলের আবেদন মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। যেসব দলের আবেদন বাতিল বা বিবেচনাযোগ্য নয় বলে মনে করা হয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ইসি সচিব জানান, বাতিল হওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে কোন শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: পিআর পদ্ধতিতে দেশের জনগণ বিভ্রান্ত হবে: রিজভী

নির্বাচন কমিশন গত ১০ মার্চ রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করে, যার সময়সীমা ছিল ২০ এপ্রিল, পরে তা ২২ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ পর্যন্ত ১৪৪টি দলের ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২২টি দলের যোগ্যতা যাচাই চলছে। নিবন্ধনের জন্য দলগুলোকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯০ক এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কমিটি।
  • দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা দপ্তর।
  • কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যকর দপ্তর এবং প্রতিটিতে কমপক্ষে ২০০ ভোটার সদস্য।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার, লোগো, পতাকার ছবি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং ৫,০০০ টাকা নিবন্ধন ফি জমার রসিদ জমা দিতে হয়। নিবন্ধিত দলগুলোর জন্য ফরম-৩-এ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে এবং তাদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, যার লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্পন্ন করা। এর মধ্যে রয়েছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা প্রণয়ন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি পরিবীক্ষণ। ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি-২০২৫-এর খসড়া কিছু সংশোধনীসহ নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে। পূর্বে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হতো, তবে নতুন নীতিমালায় এই কমিটি বিলুপ্ত করে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ইসির হাতে আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *