শেখ হাসিনা-ইমরান-newsedge24

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (ICT-1)-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই তারিখ ঘোষণা করেন। এদিন মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আসামিদের স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহম্মদ, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। পরে প্রসিকিউশন যুক্তিখণ্ডন করে। তার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মামলার সর্বশেষ দিনে চিফ প্রসিকিউটর এবং অ্যাটর্নি জেনারেল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই মামলায় ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তিনি গণহত্যার পেছনের ঘটনা ও নির্দেশদাতাদের নাম প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: আনিসুল হকসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রসিকিউশনের বক্তব্য, উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ যেকোনো আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। মামলায় শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। ৮১ জন সাক্ষী করা হয়েছে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *