পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের রায়ের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪। মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রবিউল আলম এই তারিখ ঘোষণা করেন।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ রেহানাকে অবৈধভাবে ১০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি শেখ রেহানা। এতে শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এদের মধ্যে জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, পুর্বী গোলদার, অলিউল্লাহ, কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম (কারাগারে আটক), তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অন্যরা।
দুদকের আইনজীবীরা জানান, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, রাজউকের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের আশপাশে বিধি বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায়ের দিন ঘোষণা করা হয়েছে।
এই মামলার পাশাপাশি শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির পৃথক তিন মামলার রায় ২৭ নভেম্বর ঘোষণা হবে বলে আগের দিন আদালত ঘোষণা করেছে। দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া, সালাহউদ্দিন ও এস এম রাশেদুল হাসান গত জানুয়ারিতে এই তিন মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় রাজউকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অবৈধ প্লট বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা এসব প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না বলে দুদকের দাবি।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের অধিকার
এই মামলাগুলোর তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, রাজউকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগিতায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা বিধি বহির্ভূতভাবে ছয়টি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, এসব মামলায় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা অনুপস্থিত।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































