সংসদ নেতা-প্রধানমন্ত্রী-তারেক রহমান-newsedge24

রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ নগরী (ক্লিন ও গ্রিন সিটি) হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে সবুজে ছেয়ে ফেলতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং বন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলো হলো:

  • ৫ লাখ বৃক্ষরোপণ: আগামী ৫ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • নগর বনায়ন: মেট্রোরেল (মিরপুর-১২ থেকে ডিওএইচএস) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট) নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

  • মিয়াওয়াকি ফরেস্ট: নগরীর বিভিন্ন স্থানে আধুনিক ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে বনায়ন ও জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কোরিয়ান বিনিয়োগে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি এবং জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে শহরের সকল বর্জ্য ‘জিরো বর্জ্য’-তে পরিণত হবে।

বায়ুদূষণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপ: ১. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২. ইটভাটা বন্ধ: ঢাকার চারপাশের অবৈধ ও দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ৩. ডিগ্রেডেড এয়ারশেড: সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নদী ও খাল রক্ষা

বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদী এবং ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে তরল বর্জ্য শোধনাগার (ETP) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এগুলো রিয়েল-টাইম ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ও এই সমন্বিত পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে একটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর ঢাকা উপহার দিতে পারব।”

আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদীয় অধিবেশনের এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি নিচে উপস্থাপন করা হলো:

ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ করতে প্রধানমন্ত্রীর ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজ নগরী (ক্লিন ও গ্রিন সিটি) হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফার এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব।

সবুজায়নে বিশেষ গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে সবুজে ছেয়ে ফেলতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং বন অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলো হলো:

  • ৫ লাখ বৃক্ষরোপণ: আগামী ৫ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • নগর বনায়ন: মেট্রোরেল (মিরপুর-১২ থেকে ডিওএইচএস) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট) নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।

  • মিয়াওয়াকি ফরেস্ট: নগরীর বিভিন্ন স্থানে আধুনিক ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে বনায়ন ও জিরো সয়েল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কোরিয়ান বিনিয়োগে একটি সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি এবং জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে শহরের সকল বর্জ্য ‘জিরো বর্জ্য’-তে পরিণত হবে।

বায়ুদূষণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপ: ১. ইলেকট্রিক বাস: ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২. ইটভাটা বন্ধ: ঢাকার চারপাশের অবৈধ ও দূষণকারী ইটভাটাসমূহ বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ৩. ডিগ্রেডেড এয়ারশেড: সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নদী ও খাল রক্ষা

বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদী এবং ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে তরল বর্জ্য শোধনাগার (ETP) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এগুলো রিয়েল-টাইম ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ও এই সমন্বিত পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে একটি স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর ঢাকা উপহার দিতে পারব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *