মির্জা ফখরুল-bnp-newsedge24

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা চীনে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। তিনি জানান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং কঠিন সময়েও দলটির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএনপি চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সম্পর্ক রাখতে চায়, পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা এবং কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের প্রশিক্ষণে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকায় দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সভায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীনের হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে চালুর বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী এবং চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব। এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি, পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে অভিহিত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ আরও অনেকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেন, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *