বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম-01092-NewsEdge24

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গ্যাস সরবরাহে সংকটের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গতকাল সন্ধ্যা থেকে কাজ শুরু করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।’ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সামিট টার্মিনালে এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বর্তমানে আংশিক সক্ষমতায় চলছে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সামিট টার্মিনালে বঙ্গোপসাগরে উত্তাল সমুদ্রের (রাফ সি) কারণে এলএনজি কার্গো অপেক্ষমাণ রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কার্গোটি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হলে প্রায় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটি বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে। কোন সময়ে এ কাজ করলে জনদুর্ভোগ সবচেয়ে কম হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, এক্সিলারেট টার্মিনাল বর্তমানে বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। ফলে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বন্ধ এবং অন্যটি আংশিক সক্ষমতায় থাকায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সঙ্গেও সরকারের আলোচনা চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়াকে চিঠি দেওয়ার পর তার (প্রতিমন্ত্রী) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। এরপর বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ায় গেছে।

আরও পড়ুন: ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অমিত বলেন, সেখান থেকে অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছেন তারা। পাশাপাশি আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ পদ্ধতিতে এলএনজি আনতে বাজারে পর্যাপ্ত আইএসও ট্যাংক পাওয়া এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয় রয়েছে। এটিকে মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প নিয়েই কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। গতকাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শও সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।’

জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষের অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়তে হয়। প্রকৃতি স্বাভাবিক হলে এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হবে এবং গ্যাস সরবরাহও স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয়ভাবে গ্যাসের উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিকল্প উৎস নিয়েও কাজ করছে।

আরও পড়ুন: একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টর অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সংকটের জন্য আগের সরকারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতিকেও দায়ী করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলো মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে না গিয়ে তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে একসময় এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘ভুল নীতি গ্রহণ করলে একসময় তার মাসুল দিতে হয়। বর্তমান সময়ে সেই সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *