বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে। রোববার (২২ জুন ২০২৫) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলা দায়ের করবেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশন অফিসে অভিযোগের একটি কপি জমা দেওয়ার পর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলার আবেদন করবে। তিনি বলেন, “২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হবে।” এই তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। এই নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে ভোট পূরণ করা হয়েছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানায়, ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট নির্বাচনের আগের রাতে দেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের একটি গবেষণায় ৫০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ৩৩টিতে ভোটের আগের রাতে ব্যালটে স্ট্যাম্প দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি এই নির্বাচনকে “ডামি নির্বাচন” হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বর্জন করে। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের “স্বতন্ত্র” প্রার্থীদের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল।
বিএনপির অভিযোগ, এই নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের পক্ষে একতরফা ভূমিকা পালন করেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস গত ১৬ জুন এই তিন নির্বাচনের অনিয়মের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত কমিটির প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই মামলা দায়েরের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































