লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন খালেদা জিয়া-newsedge24

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চার মাসের উন্নত চিকিৎসা শেষে আজ সোমবার (৫ মে) লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ায় তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির প্রদত্ত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফিরছেন।

স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০-এর দিকে খালেদা জিয়া তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কিংস্টনের বাসভবন থেকে হিথরো বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা ২:২০-এ তাঁকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি গেটে পৌঁছায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই পুত্রবধূ—তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। বিমানবন্দরে তাঁদের বিদায় জানান তারেক রহমান এবং তাঁর মেয়ে জায়মা রহমান।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তাঁদের প্রিয় নেত্রীকে উৎসবমুখর শুভেচ্ছা জানান। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত নেতা-কর্মীদের হাতে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়ে লেখা পোস্টার, ব্যানার এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা দেখা গেছে। এই আবেগঘন বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সাধারণ সম্পাদক কায়সার এম আহমেদ, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

খালেদা জিয়াকে বহনকারী কাতার রাজপরিবারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (এয়ারবাস এ৩১৯) যুক্তরাজ্য সময় বিকেল ৪:১০-এ হিথরো বিমানবন্দর থেকে দোহার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। দোহায় প্রায় দেড় ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর এটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০:৩০-এ ঢাকায় অবতরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা মো. এনামুল হক চৌধুরী, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, এবং দুজন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও রূপা সিকদার রয়েছেন।

বিএনপি ঢাকায় খালেদা জিয়ার স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বিএনপির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। তবে, বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে বা তাঁর বাসভবনে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দলীয় ও জাতীয় পতাকা হাতে নেতা-কর্মীদের সড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “শুধু বিএনপি নয়, গোটা দেশের মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।” তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো, এবং তিনি পরিবারের সান্নিধ্যে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে ফিরছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *