আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের গুলশানের বাসা থেকে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার আদালত। রোববার (২৭ জুলাই, ২০২৫) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, ঢাকা মহানগর শাখার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদমান সাদাব।
মামলার বিবরণ
গুলশান থানার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন জানান, আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। তারা হুমকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন এবং দাবি না মানলে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে পুলিশে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। চাপের মুখে শাম্মী আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর নিজের কাছ থেকে ৫ লাখ এবং ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা দিয়ে মোট ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াদ ও অপু আবার বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। পুলিশকে জানানো হলে তারা পালিয়ে যান। এরপর ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টায় রিয়াদের নেতৃত্বে চারজন পুনরায় বাসার সামনে হাজির হয়ে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গুলশান থানায় খবর দেওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। তবে কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যান। আটককৃতদের মধ্যে একজন শিশু।
আরও পড়ুন: সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান হান্নানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সিদ্দিক আবু জাফর বাদী হয়ে গুলশান থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন।
সংগঠনের পদক্ষেপ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদমান সাদাবকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করেছে। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং সদস্যদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, সংগঠনটি কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যতীত সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































