সিম-newsedge24

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০টি সিম নিবন্ধনের নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাদের নামে ১০টির বেশি নিবন্ধিত রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সিমগুলি ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। তবে বন্ধের আগে ব্যবহারকারীরা অপ্রয়োজনীয় সিমের নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ পাবেন। পুরো প্রক্রিয়া আগামী নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বিটিআরসি গত মে মাসে সিমের সংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০টি করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা জাতীয় নিরাপত্তা, অপারেটরদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা রোধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। বিটিআরসির ২৯৬তম সভায় জানানো হয়, এই নিয়ম কার্যকর হলে ২৬ লাখ ব্যবহারকারীর প্রায় ৬৭ লাখ সিম বন্ধ হয়ে যাবে।

বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে মোট ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ জন সিম ব্যবহারকারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৮০.৩২% ব্যবহারকারীর নামে ৫টি বা তার কম, ১৬.২৩% এর নামে ৬-১০টি এবং ৩.৪৫% এর নামে ১১-১৫টি সিম রয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এমদাদ উল বারী বলেন, “মানুষের ভোগান্তি এড়াতে সময় নিয়ে কাজটি করা হবে। ১ আগস্ট থেকে ব্যবহারকারীদের ৩ মাস সময় দেওয়া হবে অতিরিক্ত সিম বাতিলের জন্য। এরপর বিটিআরসি বাড়তি সিম বন্ধের উদ্যোগ নেবে। পুরো প্রক্রিয়ায় ৫-৬ মাস সময় লাগতে পারে।”

ব্যবহারকারীদের তালিকা তৈরি করবে বিটিআরসির সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্মের ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান। অপারেটররা তালিকা অনুযায়ী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং সপ্তাহে অন্তত একটি এসএমএস পাঠিয়ে সিমের সংখ্যা ১০টিতে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানাবে। অপারেটররা তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এবং বিটিআরসি গণমাধ্যমে প্রচার চালাবে।

ব্যবহারকারীরা *১৬০০১# ডায়াল করে তাদের এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ও নম্বর জানতে পারবেন। অতিরিক্ত সিম থাকলে ‘ট্রান্সফার অব ওনারশিপ’ করা যাবে। প্রক্রিয়াটি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: একনেক সভায় ৮,১৪৯ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন

১০টির বেশি সিম থাকা ব্যবহারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে অপারেটরদের দেওয়া হবে। তালিকায় সর্বশেষ ছয় মাসের রাজস্ব আহরণের ভিত্তিতে সিমের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণকারী প্রাধান্য পাবে, এবং প্রতিটি অপারেটরের কমপক্ষে একটি সিম রাখা হবে। প্রয়োজনে অপারেটররা দুটি বিশেষ পছন্দের সিমের প্রাধান্য দিতে পারে।

চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হলে বাকি সিমের নিবন্ধন বাতিলের জন্য অপারেটরদের কাছে পাঠানো হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *