র‌্যাব-newsedge24

দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ভেঙে দিয়ে নতুন নামে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে জনসাধারণ মতামত দিতে পারেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। ঢাকায় সদর দপ্তর থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে সদস্য নেওয়া যাবে, যার মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর।

বাহিনীর দায়িত্বের পরিধি প্রায় আগের মতোই রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক দমন, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা—সবই এসআরবির কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্তের ক্ষমতাও থাকবে।

খসড়ায় ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমপক্ষে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা পরিচালনা করবেন এবং পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ করতে হবে। বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে।

নতুন সংযোজন হিসেবে রাখা হয়েছে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। এর সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্যদের মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার বা আইন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ একজন সরকার মনোনীত ব্যক্তি। এই কমিটি নাগরিক অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।

আরও পড়ুন: ঢাকার নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সদস্যদের শৃঙ্খলাবিধিও বিস্তারিত নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, অস্ত্রের অপব্যবহার বা অপরাধীকে সহায়তার মতো অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, খসড়ার ওপর আসা মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। চূড়ান্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত পুরোনো আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে এবং সব সম্পদ, জনবল ও চলমান মামলা এসআরবির অধীনে চলে যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন নামে বাহিনী গঠনকে কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযান, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মূল ক্ষমতাগুলো অনেকটাই বহাল রাখা হয়েছে।

1 comment on “র‌্যাবের পরিবর্তে আসছে এসআরবি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *