ওসমান হাদী-osman hadi-newsedge4

অন্তর্বর্তী সরকার শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য আরও এক কোটি টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। এই ঘোষণায় শোকাহত পরিবারের পাশে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রকাশ পেলেও সামাজিক মাধ্যমে চলছে বিতর্ক ও আলোচনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ডিসেম্বর মাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন, হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকার অনুদান অনুমোদন করে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য অনুদান হিসেবে এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জীবনযাপনের জন্য নগদ আরও এক কোটি টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই ফ্ল্যাটটি ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ‘দোয়েল টাওয়ার’-এ ১,২১৫ বর্গফুটের একটি ইউনিট। টাকাটি ফ্ল্যাট ক্রয় ও সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করা যাবে। হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় যাচাইয়ের পর ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে।

এই সহায়তা শুধু আর্থিক নয়, বরং শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রতীক। হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার পরিবারকে স্থায়ী আবাসন ও জীবিকার নিরাপত্তা দেওয়ার এই উদ্যোগ অনেকের কাছে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন—এই সহায়তা কি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ বলছেন, “হাদি বিচার চেয়েছিলেন, টাকা নয়।” আবার অনেকে এটিকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন বলে মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *