জামায়াত আমির-শফিকুর রহমান-jamat-newsedge4

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “সংসদে তেল আছে শুধু। সরকারি দলের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না।”

আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা নবীন সদস্য হলেও রাজনীতির সুস্থ চর্চা করতে চাই। জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত সংসদ থেকে জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

তিনি দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “গোটা সমাজ এখন গোঁজামিল ও টপ-ড্রেসিংয়ের ওপর চলছে। ব্যাংকিং খাতসহ সব জায়গায় ক্যাশ নেই, অথচ খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আমাদের মেরিটোক্রেটিক (মেধাভিত্তিক) সমাজ গড়ে তুলতে হবে, পলিটোক্রেটিক (রাজনীতিভিত্তিক) নয়।”

কৃষি খাত নিয়ে তিনি বলেন, “কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষির বিপর্যয় মানে দেশের বিপর্যয়। জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষকরা সেচ দিতে পারছেন না, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।”

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছ হতে হবে। কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। সিন্ডিকেট ভেঙে সোলার এনার্জি ও বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দিতে হবে।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি একই সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম ও গায়ের জোরের পথে হাঁটা হয়, তাহলে আমরা আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।”

সেমিনারে জানানো হয়, দেশের মোট জ্বালানির ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয় এবং বর্তমান সংকটে বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *