জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধু আখ্যা দিয়ে বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে। ইশিবা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” তিনি এ বছরের শেষ নাগাদ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইয়ের লক্ষ্যে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস গত দশ মাসে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইশিবাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচিতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বাংলাদেশের ‘মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের ওপর জোর দিয়ে তিনি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং আন্তদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ইউনূস ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের জন্য অন্তত তিন বছরের সুবিধা চেয়েছেন। তিনি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল এবং মহেশখালীতে এলপিজি আমদানি টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের সহায়তা কামনা করেন। এছাড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন, এবং মেঘনা-গোমতী নদীর ওপর নতুন চার লেনের সেতু নির্মাণে সহজ শর্তে ঋণের জন্য জাপানের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
প্রফেসর ইউনূস অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা যন্ত্রপাতি, উচ্চ প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স, এবং সৌরশক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ইশিবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জাপানে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ এবং ‘বাংলাদেশ-জাপান স্কিলড ওয়ার্কফোর্স পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’ চালুর প্রস্তাব দেন। শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ইউনূস বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, এবং প্রশিক্ষকদের জন্য জাপানে শিক্ষার সুযোগের অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী ইশিবা বলেন, “বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে টোকিও অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করবে।” তিনি ৩৮ বছর আগে যমুনা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ ও এর জনগণের প্রতি জাপানের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।” তিনি পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহও প্রকাশ করেন।
বৈঠকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রফেসর ইউনূস বলেন, “আমাদের সরকার প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে সর্বোত্তম সম্পর্ক বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।” তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































