জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশের প্রতিবাদে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা চতুর্থ দিনের মতো কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন, ২০২৫) দুপুর ১২টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। তবে, আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ ভবনের ভেতরে এবং অন্য অংশ বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ভবনে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের বৃহস্পতিবারের বৈঠকের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ঘোষণা করেছে, ২৭ জুনের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের অপসারণসহ তাদের দাবি মানা না হলে ২৮ জুন সারাদেশের কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ থেকে ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই দিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি কার্যক্রম এর আওতার বাইরে থাকবে।
গত ১২ মে সরকার এনবিআর ও আইআরডি বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। এর প্রতিবাদে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলমবিরতি, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্দোলনে নামেন। গত ২৩ জুন ঢাকার রাজস্ব ভবনে সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন, যেখানে অনেকে কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানান।
২৬ মে সরকার ঘোষণা দেয়, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। তবে, এনবিআর চেয়ারম্যানের নিপীড়নমূলক বদলির আদেশ এবং অধ্যাদেশ সংশোধন কমিটিতে সংস্কার ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি না রাখার প্রতিবাদে আন্দোলন পুনরায় তীব্র হয়।
এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার এবং অতিরিক্ত কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান চেয়ারম্যানের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সংস্কার প্রক্রিয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের আলোচনার প্রস্তাব ফলপ্রসূ না হওয়ায় তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, এনবিআরের আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































