পটিয়ায় ছাত্রদের উপর পুলিশের হামলা-newsedge4

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর থানার ওসির নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর দেকে ধরে পটিয়া থানায় সোপর্দ করতে গেলে পুলিশ ‘গ্রেপ্তারে অস্বীকৃতি’ জানায়। এ সময় থানার ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর পলাশের নেতৃত্বে হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে পুলিশের দাবি, থানার ভেতরে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের চেষ্টার কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং ধস্তাধস্তির সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

মঙ্গলবার (১ জুলাই, ২০২৫) রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটিয়া থানার সামনে ঘটনাটি ঘটে, এর প্রতিবাদে বুধবার (২ জুলাই, ২০২৫) সকাল ১০টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি’র নেতা-কর্মীরা পটিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এছাড়া, তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে এই সড়কে চলাচলকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পটিয়া থানার ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর পলাশের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়। এতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রিদওয়ান সিদ্দিকী, এনসিপি’র মহানগর সংগঠক সাইদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা সংগঠনের কর্মী তৌকির ও রাব্বি। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর, তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ছাত্রলীগ নেতা দীপঙ্কর দেকে থানায় সোপর্দ করতে গিয়েছিলাম। পুলিশ প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তারা আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং লাঠিপেটা করে।” রিদওয়ান সিদ্দিকী বলেন, “রাঙ্গামাটির ছাত্রলীগ নেতা পটিয়া স্টেশনে আছেন বলে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাকে ধরে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।” বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব রিজাউর রহমান বলেন, “পটিয়া থানায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওসির নির্দেশে হামলা হয়েছে। ওসি জাহেদ নূরকে অপসারণ না করা পর্যন্ত পটিয়া থানার সব কার্যক্রম সন্দেহের মধ্যে থাকবে। এই হামলার শিকার শুধু আমরা নই, ছাত্রদলের সদস্যরাও হয়েছেন।”

পটিয়া থানার ওসি আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর পলাশ বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগ নেতা দীপঙ্কর দেকে থানায় নিয়ে আসেন। তারা থানার ভেতরে তাকে মারধরের চেষ্টা করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ধস্তাধস্তির সময় ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি ওসি পলাশের অপসারণের দাবিতে পটিয়া থানা ঘেরাও ও মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। ডা. মো. নওশাদ, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, নিশ্চিত করেছেন যে দুজন গুরুতর আহত রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *