বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গোপন প্রক্রিয়ায় ৬৫ জন চিকিৎসকের নিয়োগের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৪২ জন চিকিৎসককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার বিকেল ৩টায় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জানান, “নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা মহল থেকে সমালোচনার কারণে শনিবার পরিচালনা বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় গত মাসে দেওয়া ৬৫ চিকিৎসকের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, নতুন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনে ৪২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘আওয়ামী স্টাইলে ৬৫ চিকিৎসক নিয়োগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অধিকাংশই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত। এই গোপন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পত্রিকা বা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, এবং লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য চিকিৎসকরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। বঞ্চিত চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম এবং নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে তড়িঘড়ি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।
বঞ্চিত চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, শিশু হাসপাতাল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও এর ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশ সরকার বহন করে। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকা ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা নিয়ম। কিন্তু এই নিয়োগে কোনো নিয়ম মানা হয়নি, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তারা জুলাই বিপ্লবের মূল্যবোধের সঙ্গে এই নিয়োগকে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
নিয়োগ বোর্ডের দাবি ছিল, আইন অনুযায়ী পরিচালক অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই হাসপাতালে কর্মরত অনারারি চিকিৎসক ছিলেন, এবং বোর্ড সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































