রাজনৈতিক সংলাপ: জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে আজ যমুনায় বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার (২২ অক্টোবর, ২০২৫) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসছেন। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় বিকেল সোয়া পাঁচটায় এনসিপি এবং সন্ধ্যা ছয়টায় জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির সঙ্গে যমুনায় বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, চলমান রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে আজ এনসিপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হবে। প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় বলা হয়, “আজ বিকেল সোয়া পাঁচটায় জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধিদল এবং সন্ধ্যা ছয়টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।”

জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তাদের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেবে। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

সংলাপের প্রেক্ষাপট

১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর থেকে এর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এই পটভূমিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। গতকাল বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে তারা নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদল’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, সরকারে কোনো দলীয় ব্যক্তি থাকলে তাঁদের অপসারণের দাবিও উত্থাপন করেছে বিএনপি।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নভেম্বরে গণভোট এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় তাদের অবস্থানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বৈঠকের সম্ভাব্য এজেন্ডা

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সঙ্গে আজকের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচনী সংস্কার, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াত তাদের দাবি অনুযায়ী গণভোট এবং পিআর পদ্ধতির ওপর জোর দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনসিপি তাদের সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান উপদেষ্টার এই সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  সেনা কর্মকর্তারা নির্দোষ, মূল অপরাধীরা পালিয়েছে : আইনজীবী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *