অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশের ৩০০টি আসনেই একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জানানো হয়, আজ মধ্যরাত থেকেই সরকারি মুদ্রণালয়ে ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু হবে—যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দেশে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল সংস্কারের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি ছিল। এরপর আজ ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। প্রেস সচিবের ঘোষণা অনুসারে, কোনো আসনই বাদ পড়বে না—সবকটিতেই ভোটগ্রহণ হবে।
ব্যালট পেপার ছাপার এই শুরু নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। সরকারি মুদ্রণালয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে এই কাজ চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যালট ছাপা শুরু হওয়ার পর থেকে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ আরও বাড়বে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর সাংবিধানিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের সংবিধান সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে। এই দ্বৈত ভোটের কারণে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন দাবি করছে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রচারণা শুরু হয়েছে গতকাল মধ্যরাত থেকে। প্রার্থীরা এখন গ্রামে-শহরে ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেট থেকে তার প্রচারণা শুরু করবেন। অন্যদিকে, প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভোট দিতে শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন চলবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এই নির্বাচনকে অনেকে দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের শেষ ধাপ হিসেবে দেখছেন। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের ছায়া মুছে ফেলে একটি নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব এখন সরকার, কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। প্রেস সচিবের কথায়, “এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করবে।”







































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































