অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের সব মামলা রহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যাচার করা হয়। আমরা এর জন্য কোনো মামলা করিনি, প্রতিবাদও করিনি। দেশের মানুষের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।” বৃহস্পতিবার (২৬ জুন, ২০২৫) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির আইনি কাঠামোর পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্ট্যাডিজ।
আলোচনায় ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও অংশ নেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. বদিউল আলম মজুমদার, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৃক পিকচার লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, পারভেজ করিম আব্বাসী, ড. জাহেদ উর রহমান, কদরুদ্দিন শিশির, মুক্তাদির রশীদ, জায়মা ইসলাম, পারভিন এফ চৌধুরী, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং ববি হাজ্জাজ।
আসিফ নজরুল বলেন, “২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, কিন্তু গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ জন। মামলাগুলো ইনসাইড ক্রাইম বা অ্যামেন্ডমেন্টের জন্য। এগুলো সাধারণ মানুষ দায়ের করেছেন, আমাদের কিছু করার নেই। তবে, আমরা নির্দেশ দিয়েছি, সাবস্ট্যান্সিয়াল এভিডেন্স ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার না করতে।”
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার ও কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে টেলিভিশন বা পত্রপত্রিকায় পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। “কী ধরনের সংস্কার দরকার, কমিশনের রিপোর্টের দুর্বলতাগুলো কী, এ নিয়ে কথা বলা হয়নি। এই বিবেচনা থেকেই এই আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে।”
ড. বদিউল আলম মজুমদার উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো লাইসেন্স পেতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্গীকারনামা দিয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সীমিত করেছে।
শফিকুল আলম বলেন, “হাসিনার ১৫ বছরে ট্রাস্ট ডেফিসিট তৈরি হয়েছে। আমরা সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার জন্য কোনো প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করছি না। মিথ্যা খবর হলে আমরা জানিয়ে দিচ্ছি, কেউ সরাচ্ছেন, কেউ নয়। সবাই নিজ নিজ আইনি পথে এগোক।”
ড. শহিদুল আলম বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্সে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুভূতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রশ্ন তুলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হবে?”
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, মিডিয়ার স্বাধীনতা মার্কেটিং বিভাগের আয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। রুহিন হোসেন প্রিন্স দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, “আইনি কাঠামো দিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। সাংবাদিক, মালিক এবং জনগণের মধ্যে বহুমুখী অবিশ্বাস দূর করতে গণমাধ্যমকে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
সোহরাব হাসান বলেন, “সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত। এই বিভক্তি কাটাতে পেশাজীবী সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।” পারভেজ করিম আব্বাসী মিডিয়া, রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদদের মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
জায়মা ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর ২৬৭ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের হয়েছে, যার মাত্র ২০% আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংযুক্ত। বাকিরা সাধারণ মানুষ, এবং অনেক মামলা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দায়ের হয়েছে।
কদরুদ্দিন শিশির বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবাধে মামলা দেওয়া নিন্দনীয়। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত।” পারভিন এফ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কারণে সাংবাদিকরা সেলফ-সেন্সরশিপে চলে গেছেন, যা থেকে বেরিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকতায় ফিরতে হবে।







































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































