জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে ফেরার পথে নেতা-কর্মীদের গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে এনসিপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীরা টেকেরহাট হয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। বিকাল ৩টার দিকে পৌর পার্কের কাছে তাদের গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। আমরা যখন রওনা দিয়েছি, তখন গ্রাম থেকে এবং সারা বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে।” তিনি আরও জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এ সময় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
হামলাকারীরা, যাদের এনসিপি নেতারা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে অভিযোগ করেছেন, সমাবেশের মঞ্চে সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ও ব্যানার ভাঙচুর করেছে। এছাড়া, তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে তারা মঞ্চে চড়াও হয়।
এর আগে, সকালে গোপালগঞ্জ সদরের উলপুর এলাকায় পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া, সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়ি বহরেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশস্থলে হামলা ও ভাঙচুর
হামলার সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্য পথে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন।
সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়ক, টেকেরহাট সড়ক ও টুঙ্গিপাড়ায় এপিসি মোতায়েন করেছে। এছাড়া, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে, তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
১৪৪ ধারা জারি
উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এই ঘোষণা বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এনসিপির নেতারা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এর জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন। তারা দাবি করেছেন, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।







































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































