বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তৌহিদী জনতার নামে দেশে চলমান উৎপাত ও নৈরাজ্যের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাজধানীর নয়াপল্টনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, “ধর্মের নামে নানা ফতোয়া দিয়ে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা নিজেরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছি। কেউ কারো মাজার ভাঙছে, কেউ লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কখনোই রাসুলের (সা.) শিক্ষার অংশ নয়।” তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “দেশে হঠাৎ করে এসব নৈরাজ্য কেন বাড়ছে? এর পেছনে কী কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে?”
তিনি আরও বলেন, “তৌহিদী জনতার নামে চলমান নৈরাজ্যের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। বিএনপির শাসনামলে শেখ হাসিনা যেমন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চক্রান্ত করেছিলেন, এখনও কি সেরকম কোনো ষড়যন্ত্র চলছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এর উৎস খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “পাকিস্তান আমলেও মাজার আক্রমণ বা লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা শোনা যায়নি। এখন হঠাৎ এসব ঘটনা কেন ঘটছে, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।”
রিজভী বলেন, “আজ আমরা গণতন্ত্রের চেতনাই বলি, রাষ্ট্রীয় চেতনাই বলি, মহানবী (সা.) পৃথিবীর কাছে নিদর্শন দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমরা তাঁর শিক্ষা না নিয়ে নিজেদের ধর্ম ও ইসলামকে বিভিন্ন ফেরকা, ফিতা ও কথাবার্তা দিয়ে বিভাজন করছি। অথচ ঐক্যের প্রতীক ছিলেন আমাদের মহানবী।” তিনি আরও বলেন, “যিনি আমাদের আদর্শের প্রতীক, তাঁকে আমরা অনুসরণ বা অনুকরণ করি না। এটাই মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।”
মিলাদ মাহফিলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।
আরও পড়ুন: নুরাল পাগলার দরবারে হামলার মামলায় আসামি ৩,৫০০
রিজভী গোয়ালন্দের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “তৌহিদী জনতার নামে দেশে নৈরাজ্য চলছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ কবর থেকে তুলে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তৌহিদী জনতা ও নুরাল পাগলার অনুসারীদের সংঘর্ষে রাসেল মোল্লা (২৮) নিহত হন। এসব নৈরাজ্যের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপির আমলে শেখ হাসিনা যেমন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চক্রান্ত করেছিলেন, এখনও সেরকম কোনো ষড়যন্ত্র চলছে কি না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান আমলেও মাজার ভাঙচুর বা লাশ পোড়ানোর মতো ঘটনা শোনা যায়নি। এখন হঠাৎ এসব নৈরাজ্য কেন বাড়ছে? এর পেছনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তিনি সরকারের প্রতি এই নৈরাজ্যের মূল কারণ চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।







































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































