জবি শিক্ষার্থীদের কাকরাইল মোড়ে অবস্থান -newsedge4

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন দ্বিতীয় দিনে (১৫ মে ২০২৫) কাকরাইল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার (১৪ মে) দিনভর আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রাতভর অনেক শিক্ষার্থী কাকরাইল মসজিদের সামনে অবস্থান করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯:৩০ থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী পুনরায় অবস্থান শুরু করেন, যার ফলে কাকরাইল মোড়ে যান চলাচল বন্ধ ও পল্টনমুখী সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১২টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে লংমার্চ শুরু করলে কাকরাইল মসজিদের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে প্রায় ৫০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন, ৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। বেলা ২টায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেন, এবং বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি বাসে কয়েক শ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন যোগ দেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। সকাল ৯:৩০ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্যের সামনে থেকে ২৪টি বাস কাকরাইল মোড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “চক্রাকার বাসে শিক্ষার্থীদের আনা হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরাও যোগ দিচ্ছেন।”

তিন দফা দাবি

১. আবাসন বৃত্তি: আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি কার্যকর।
২. পূর্ণাঙ্গ বাজেট: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁট ছাড়াই অনুমোদন।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস: দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন ও অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন।

সাবেক শিক্ষার্থীদের সমর্থন

ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সাবেক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। জামালপুরের মুকুল হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, “পুলিশের হামলা সহ্য করতে পারছি না। জবি’র ওপর আঘাত মেনে নিতে পারি না।” চট্টগ্রামের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী জানান, “লাইভে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেখে স্থির থাকতে পারিনি। ভোর ৪টায় ঢাকায় এসেছি। দাবি পূরণ না হলে যাব না।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় যমুনার সামনে যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে বুধবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর বোতল ছোড়ার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাহফুজ বলেন, “সাবোটাজকারীরা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।” তিনি দ্রুত দাবি সমাধানের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *