রাজধানী ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের মধ্যভঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে এই ভূকম্পন সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি করলেও, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দুপুরের ঠিক আগে, যখন নগরের ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখনই হঠাৎ অনুভূত হয় এই মৃদু ঝাঁকুনি। বহুতল ভবনে থাকা বাসিন্দারা এবং অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আচমকা এই কম্পনে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভূমিকম্পের অনুভূতি শেয়ার করতে থাকেন। ঢাকা ও গাজীপুর ছাড়াও টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকায় এই কম্পন টের পাওয়া গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) দ্রুতই এই ভূমিকম্পের খবর নিশ্চিত করে। সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয়ভাবে এই কম্পনের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ দশমিক ৪।

বিজ্ঞানীদের মতে, রিখটার স্কেলে ৪-এর নিচে থাকা কম্পনগুলোকে ‘মৃদু’ বা ‘মাইনর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি বা অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয় না, তবে ভূগর্ভস্থ ভূ-প্রকৃতির নড়াচড়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইএমএসসির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান ছিল ময়মনসিংহের ভালুকা ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মাঝামাঝি একটি অঞ্চলে, যা রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তর দিকে অবস্থিত।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকেন্দ্রের গভীরতা কম (১০ কিলোমিটার) হওয়ার কারণেই মৃদু মাত্রার হওয়া সত্ত্বেও এই কম্পনটি ঢাকা ও গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষ বেশ স্পষ্টভাবে টের পেয়েছেন। সাধারণত উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের যত কাছাকাছি হয়, কম্পনের তীব্রতা তত বেশি অনুভূত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *