অ্যাটর্নি-জেনারেল-আসাদুজ্জামান-newsedge24

প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১৩১ জনকে বদলি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বদলি কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এ তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদলি-পদায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা আছে। রাতারাতি সব পাল্টে ফেলা সম্ভব না। কোনো না কোনো জায়গা থেকে শুরু করতে হবে, সে কাজ আজ শুরু হলো।

আইনমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় পোস্টিংকে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে ধরা হয়। ধরে নেওয়া হয়, যাদের এখানে পোস্টিং হয়, তারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রাইজ পোস্টিংয়ের মধ্যে প্রথম লটারি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকাতে যারা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে আসেন, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়। সেই প্রাইজ পোস্টিংয়ের মধ্যে আমরা প্রথম লটারি করতে যাচ্ছি। ঢাকার পদগুলো সব ‘এ’ ক্যাটাগরির।

মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ঢাকার জন্য বাছাই করা হয়েছে। এরপর তাদের দক্ষতা যাচাই করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোস্টিং দেওয়া হবে।

আমি একটু বসে ইন্টারভিউ নিয়ে, দক্ষতার বেসিসে যে এলাকায় বেশি চাপ, যারা সহ্য করতে পারবে, তাদের আমরা সে এলাকায় দেব। কাজের লোড অনুসারে। আমাদের সব এলাকায় কাজের লোড এক রকম না, ঢাকা শহরে। যে যতটুকু লোড নিতে পারবেন, আমরা সে অনুসারে তাকে সে জায়গায় পোস্টিং করব—বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুধু লটারির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পদে কর্মকর্তাদের দিলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই লটারিতে নাম ওঠা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনা করে পোস্টিং দেওয়া হবে।

লটারির মাধ্যমে বদলির এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, আবারও বলছি, আমরা লটারি হিসেবে যখন দিচ্ছি, এটা আমাদের একটা শুরু। এই প্রক্রিয়াটা চলমান। সমস্ত জায়গায় আস্তে আস্তে এটাকে সমাধানের পথ বের করব।

আরও পড়ুন: শিশুদের নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সাব-রেজিস্ট্রারদের প্রাইজ পোস্টিংয়ে বদলির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, বাই রোটেশনে প্রাইজ পোস্টিংগুলো, যেটা মনে করা হয় ডিপার্টমেন্টের, যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজায়, সেই জায়গাগুলোতে আমরা দেব। যে জায়গাটা মনে করছি পাবলিক পারসেপশনে দুর্নীতির আখড়া, সেই জায়গায় সেই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য এই প্রক্রিয়া।

এই উদ্যোগের ফলে দুর্নীতি কমবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই। আমরা আশা করি। আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের কাজ শুধু আইন মন্ত্রণালয়ের নয়, গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় কীভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লটারিতে বাছাই করা সাব-রেজিস্ট্রারদের ঢাকায় পদায়নের মেয়াদ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণভাবে দুই বছর থাকার বিধান থাকলেও কেউ দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে রাখা হবে না।

আরও পড়ুন: বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: বিমানমন্ত্রী

সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তার মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো ২৪ ঘণ্টা মনিটরিংয়ে রাখবে। গণমাধ্যমের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে টাকা ও মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংবাদিক হোক বা সাব-রেজিস্ট্রার, যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমি চেষ্টা করছি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে যেমন হয়রানি করব না, কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাকে ছাড়ও দেওয়া হবে না।

এ সময় গত ছয় মাসে ১০ জন সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *