নাঈম আহমেদ টিটন-newsedge24

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ঢাকার অপরাধজগতের অভ্যন্তরীণ আধিপত্য ও বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে দুর্বৃত্তরা টিটনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদপুর এলাকার দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল ও সানজিদুল ইসলাম ইমন। টিটনসহ এই তিনজনই নব্বইয়ের দশকে মোহাম্মদপুর অঞ্চলে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছিলেন। ইমন টিটনের ভগ্নিপতি।

বিরোধের কারণ

সূত্র বলছে, সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে টিটনের অস্ত্রের ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের বছিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গেও টিটনের বিরোধ তীব্র হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এই দুই পক্ষের যেকোনো একটি টিটনকে হত্যার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

টিটনের ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বুধবার নিউমার্কেট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি পিচ্চি হেলাল ও তার তিন সহযোগী বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান এবং রনি ওরফে ড্যাগারি রনির নাম সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কাউকে সরাসরি আসামি করা হয়নি।

সাঈদ আক্তার রিপন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মৃত্যুর তিন দিন আগে টিটন তার সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন যে, বছিলার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ চলছিল, কিন্তু পরে সমঝোতা হয়েছে। তিনি মনে করেন, হত্যার নেপথ্যে পিচ্চি হেলালের হাত থাকতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইমনের সঙ্গে টিটনের কোনো বিরোধ ছিল না। এছাড়া মোহাম্মদপুরের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন টিটন। এ কারণে জোসেফকেও তিনি সন্দেহ করছেন।

আরও পড়ুন: 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ২ নম্বরে ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *