আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলসহ -newsedge24

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল (অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর) এ রায় ঘোষণা করেন। এটি ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত প্রথম রায়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:

  • সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
  • আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি
  • স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া
  • তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক
  • সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা
  • কনস্টেবল মুকুল চোকদার

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন:

  • ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম
  • সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন
  • ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী
  • সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম
  • সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান
  • ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন
  • সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস

সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন:

  • এসআই আরাফাত উদ্দিন
  • এএসআই কামরুল হাসান

সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক (তিনি মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনাল তাকে ক্ষমা করেছেন)।

এদিন বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে গ্রেপ্তার আট আসামিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, মো. শাহিদুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। বাকি আসামিরা পলাতক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন) আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ছয়জনের লাশ ভ্যানে তুলে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় (একজন জীবিত অবস্থায় পোড়ানো হয়)। শহীদরা হলেন— সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: আসন্ন নির্বাচনে ১ হাজার ৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

গত বছর ২ জুলাই অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশন ৩১৩ পৃষ্ঠার সাক্ষ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ দাখিল করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *