গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু-newsedge24

ঢাকার পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির ৩২২ নম্বর মেট্রো পিলারের উল্টো পাশে ৫৮৩ অনামিকা কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্টে বুধবার (১৩ আগস্ট ২০২৫) দিবাগত রাতে ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। চার সন্তানের জননী কেয়ার মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে তার পরিবার তার স্বামী সিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

কেয়ার মা নাজমা বেগম জানান, রাত ১টা ৫৬ মিনিটে সিফাত তাকে ফোন করে বলেন, “এখনই বাসায় আসেন, কেয়া আর নেই।” তিনি বলেন, “বাসায় পৌঁছে দেখি সিফাত জানায় কেয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে পথে জানানো হয়, তাকে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে সিফাতের গাড়িচালক, কাজের ছেলে এবং তার বন্ধু মারুফ নেওয়াজ প্রেমকে দেখি। কিন্তু সিফাত সেখানে ছিল না। প্রেম বলে, ‘আপনি শান্ত হন, আপনার মেয়েকে সিফাত মেরে ফেলেছে, আমরা সাক্ষী দেব।’”

কেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকরা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিফাতের বন্ধুসহ সবাই হাসপাতাল থেকে চলে যায়। আমরা মেয়ের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাই।” তিনি আরও বলেন, “সিফাত খুবই বদমেজাজি ছিল। সন্তানদের সামনে কেয়াকে মারধর করতো। কেয়া একবার বলেছিল, সে সংসার ছেড়ে চলে আসবে। আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে সংসার চালিয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু সিফাত আমার মেয়েকে শেষ করে দিল।”

আরও পড়ুন: পরিচয় মিললো মৌচাকে উদ্ধার হওয়া ২ লাশের

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মেয়ের গলায় দাগ দেখেছি। সুস্থ মানুষ হঠাৎ এভাবে মারা যায় না। সিফাত পালিয়েছে কেন? আমার বড় নাতনি ভিকারুননিসায় চতুর্থ শ্রেণিতে, বড় ছেলে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে, মেজ ছেলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে।”

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাত রোমান জানান, “গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে গৃহবধূর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হবে। তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *