রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। প্রত্যাহারের পর ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা যায়, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মুখোশধারী ২০০-২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে এক পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। পরে ধ্বংসস্তূপের ওপর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও বিপুল আসবাবপত্র লুট করে। শুধু মালামাল ও যন্ত্রপাতির ক্ষতির পরিমাণ অন্তত দেড় কোটি টাকা। হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। ঘটনার পর থেকে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে প্রসূতি নারী ও শিশুদের টিকা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রেখেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
পরদিন নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদীদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার আখতার হোসেন জানান, হামলা ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। অন্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসছিল।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































