প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন-newsedge24

টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে আমরা গণতন্ত্র সুসংহত করতে পারব না।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্টের আয়োজনে ড্রাফট জেন্ডার ইকুয়ালিটি স্ট্রাটেজি শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে নারীদের অংশগ্রহণ। প্রয়োজন নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ। কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। আমরা যদি গণতন্ত্রকে বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই করতে চাই, তবে দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ হবে, তবে প্রার্থী কম হবে। কারণ কালচার ও বিশ্বাস। পরিবর্তন মানুষ সহজে চায় না, পরিবর্তন করতে গেলে আমরা ১০ বার ভাবি। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

নির্বাচনে নারীদেরও যথাযথ অংশগ্রহণ ও সুযোগ থাকা উচিত উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন হবে। কারণ প্রার্থীরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। ফলে ভোটারদের অংশগ্রহণ যে বিপুল হবে, তা অতীতের পরিসংখ্যানই নিশ্চিত করে। তবে এটাও সত্য যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা খুবই কম হয়।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নারীদের সুরক্ষায় শক্ত আইন আছে। তবে নারীর অধিকার সুরক্ষার জন্য এসব আইনের পাশাপাশি সামাজিক বিপ্লব প্রয়োজন।

ইসি বেগম তাহমিদা আহমদ বলেন, সমস্যার গভীরে যেতে হবে। নারী ভোটার বাড়াতে হলে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে যেতে হবে।

ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জেন্ডার ইকুইলিটি নিশ্চিত করতে হলে নারীদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করতে হবে। নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে নারীদের অনেক সুযোগ আছে। স্থানীয় সরকারে তাদের জন্য পদ সংরক্ষিত আছে। এখানে ভালো করলে তারা জাতীয় রাজনীতিতে যেতে পারেন। দুঃখজনকভাবে গত জাতীয় নির্বাচনে কম নারী প্রার্থী ছিল। দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীরা থাকলে প্রার্থী আরও বাড়তো। নারীদের বিরুদ্ধে যেসব ভুয়া ও অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়, তা বন্ধ করতে উদ্যোগ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *