বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-newsedge4

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যদি তাদের পবিত্র ভোট দিয়ে এই জোট ও ঐক্যকে নির্বাচিত করে, তাহলে তারা কথা রাখবেন। প্রথমত জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেবেন না, পুরোনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করবেন না, পেছনের দিকে দৌড়াবেন না। তিনি যুবকদের স্বপ্নের অগ্রগামী বাংলাদেশ গড়তে চান।

আজ শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রেজাউল করিম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হাফিজ উল্যাহর হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবকরা, আমরা তোমাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। তোমরা বেকার ভাতার জন্য কোনো দাবি জানাওনি। বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদেরকে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের হাতগুলোকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব। প্রত্যেকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব। সেদিন প্রতিটি যুবক গর্বের সাথে বলবে—‘আমিই বাংলাদেশ। আমাকে দেখে বুঝে নাও বাংলাদেশ কী জিনিস।’ আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ৬২ শতাংশ প্রার্থী হচ্ছে যুবক। বার্তা দিচ্ছি—আগামীর দেশ হবে যুবকদের বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা একদিকে বলছেন মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। আরেকদিকে সেই মায়ের গায়েই দিচ্ছেন হাত। আপনারা মায়েদের কীভাবে দেখবেন—এখনই বোঝা যাচ্ছে। সকালের সূর্য দেখলেই বোঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। ভোটের আগের আবহ দেখলে বোঝা যায় কেউ নির্বাচিত হলে আগামীটা কেমন হবে। মনে রাখবেন, সেদিন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া জাতি ক্ষমা করেনি, গর্জে উঠেছিল, ফুঁসে উঠেছিল—আজকেও মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন, নিজেদের কবর রচনা করবেন।”

জামায়াত আমির বলেন, “দেশবাসী রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্ত দেখেছে, ৫৪ বছর দেখেছে। সে বন্দোবস্তে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে। দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। চাঁদাবাজিতে জনগণকে অতিষ্ঠ করেছে। জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে গুলি ছুঁড়েছে। সে রাজনীতি আমার মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। ওই রাজনীতি আবার ফিরে আসুক—আমরা চাই না।”

আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই: জামায়াত আমির

জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান এ টি এম মাছুম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, শিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাহেদী, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম ও চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *